আমেরিকার কালো মানিক
‘আমার একটি স্বপ্ন আছে’-এই বিখ্যাত উক্তিটির প্রবক্তা মার্টিন লুথার কিং। আমেরিকায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অহিংস আন্দোলনের জন্য কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হয়েও ১৯৬৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এই বর্ণবাদবিরোধী নেতা। ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটনের অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচীতে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষনের শিরোনাম ছিল ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’। শ্বেতাঙ্গ এবং কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে বর্নবাদ প্রথা দূর করতে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, যাঁর নেতৃত্বে কালো মানুষ পেয়েছে সাদা মানুষের সমান অধিকার, আর সাদা নাগরিকরা পেয়েছে বর্নবাদের অভিশপ্ত অহংকার থেকে মুক্তি, আজ গল্প শোনাবেন রিক্তা রিচি।
‘আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন এই জাতি জাগবে এবং বাঁচিয়ে রাখবে-এই বিশ্বাস। আমরা এই সত্যকে স্বতসিদ্ধভাবে গ্রহণ করছি: সব মানুষ সমান।
আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন জর্জিয়ার লাল পাহাড়ে সাবেক দাস আর সাবেক দাসমালিকের সন্তানেরা ভ্রাতৃত্বের এক টেবিলে বসতে সক্ষম হবে।
আমি স্বপ্ন দেখি, অবিচার আর নিপীড়নের উত্তাপে দম বন্ধ করা মরুময় মিসিসিপি একদিন হয়ে উঠবে মুক্তি আর সুবিচারের মরুদ্যান।
আমি স্বপ্ন দেখি, আমার চার সন্তান একদিন এমন এক জাতির মধ্যে বাস করবে যেখানে তাদের চামড়ার রঙ দিয়ে নয় তাদের চরিত্রের গুণ দিয়ে তারা মুল্যায়ন করবে।
আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন আলাবামা রাজ্যে, যেখানকার গভর্নরের ঠোট থেকে কেবলই বাধানিষেধ আর গঞ্জনার বাণী ঝরে, একদিন সেখানকার পরিস্থিতি এমনভাবে বদলে যাবে যে কালো বালক আর বালিকারা সাদা বালক আর বালিকাদের সঙ্গে ভাইবোনের মতো হাত মেলাবে।
আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন সব উপত্যকা উত্তীর্ন হবে, সব পাহাড় আর পর্বত হবে আনত, এবড়ো-থেবড়ো জমিন মসৃন হবে, আঁকাবাঁকা জায়গাগুলো সমান হবে এবং ঈশ্বরের জয় উদ্ভাসিত হবে এবং একসঙ্গে সব মানুষ তা দেখবে।
এই-ই আমাদের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন নিয়েই আমি দক্ষিণে ফিরে যাব। এই বিশ্বাস নিয়ে হতাশার পর্বত থেকে আমরা সৃষ্টি করব আশার প্রস্তর। এই বিশ্বাস নিয়ে আমরা আজকের বেসুরো কোলাহল থেকে জন্ম দেব ভ্রাতৃবন্ধনের সুন্দরতম সঙ্গীতের। যে মাটিতে আমার পিতারা শায়িত, তার প্রতিটি পাহাড়ের ঢাল থেকে বেজে উঠুক মুক্তির গান।
যখন আমরা মুক্তিকে ধ্বনিত হতে দেব, যখন প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি বসতি, প্রতিটি রাজ্য এবং শহরে বাজবে মুক্তির গান, তখন আমরা সেই দিনকে আরও কাছে নিয়ে আসতে পারব, যেদিন কালো মানুষ ও সাদা মানুষ ইহুদি ও জেন্টাইল, প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিক-সবাই হাতে হাত ধরে গাইবে সেই নিগ্রো মরমী-সংগীত ‘এত দিনে আমরা মুক্ত হলাম! এত দিনে পেলাম মুক্তি! ও সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তোমাকে ধন্যবাদ, আমরা আজ মুক্ত!’’
এমনই জ্বালাময়ী স্বপ্নের প্রবক্তা মার্টিন লুথার কিং। ১৯৬৩ সালের ২৮ আগষ্ট অয়াশিংটন ডিসিতে এই ভাষণ দেন তিনি।

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই মহান নেতা জন্মগ্রহন করেছিলেন ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি জর্জিয়ার আটলান্টায়। ১৯৫৫ সালে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব ফিলোসোফি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি মানবাধিকারকর্মী ছিলেন।
এই মহান নেতা শ্বেতাং উগ্রপন্থি যুবক জেমস আর্লরে নামক আততায়ীর হাতে গুলবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল মাত্র ৩৯ বছর বয়সে।