চায়ের দোকান

চায়ের দোকান

  • উদ্যোক্তা ডেস্ক 

“অল্প পুঁজি দিয়ে ছোটখাটো যেসব ব্যবসা করা যেতে পারে চা’র দোকান এর মধ্যে অন্যতম। পরিবারের যে কোনো বয়সের ব্যক্তি চা’র দোকান চালাতে পারে। চা-এর দোকানে বিস্কুট, কলা, কেক, পাউরুটি ইত্যাদিও বিক্রি হতে দেখা যায়। খুব ছোট আকারেও এ ব্যবসা শুরু করা যায়। যে কোনো স্থানেই চা-এর দোকান করা সম্ভব। তবে রাস্তার মোড়ে হলে ব্যবসা ভালো চলে। এছাড়া অনেক লোকসমাগম ঘটে এমন যে কোনো জায়াগাতে চা-এর দোকান গড়ে তোলা যেতে পারে। অনেক সময় বড় রাস্তার পাশে দোকান দিলে ভালো জমে উঠে।”


চা-এর দোকান

অল্প পুঁজি দিয়ে ছোট খাটো যে সব ব্যবসা করা যেতে পারে চা-এর দোকান এর মধ্যে অন্যতম। পরিবারের যে কোন বয়সের ব্যক্তি চা-এর দোকান চালাতে পারে। চা-এর দোকানে বিস্কুট, কলা, কেক, পাউরুটি ইত্যাদিও বিক্রি হতে দেখা যায়।

বাজার সম্ভাবনা 

অল্প পুঁজিতে আয় রোজগারের একটি উপায় হিসাবে চা-এর দোকান বেশ ভালো একটি ব্যবসা। গ্রামেগঞ্জে, হাটবাজারে সব জায়গাতেই চা-এর দোকানের চাহিদা দেখা যায়। যে কোন আয়তনেই চা-এর দোকান করা সম্ভব । আর্থিক সামর্থ্য ও সুযোগ থাকলে বড় আকারে চা-এর দোকান করা যেতে পারে। খুব ছোট আকারেও এ ব্যবসা শুরু করা যায়। যে কোন স্থানেই চা-এর দোকান করা সম্ভব। তবে রাস্তার মোড়ে হলে ব্যবসা ভালো চলে। এছাড়া অনেক লোক সমাগম ঘটে এমন যেকোন জায়াগাতে চা-এর দোকান গড়ে তোলা যেতে পারে। অনেক সময় বড় রাস্তার পাশে দোকান দিলে ভালো জমে উঠে। ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী লোকজন প্রয়োজন অনুসারে যাত্রা বিরতি করে চা পান করতে পারেন।

মূলধন  

আনুমানিক ১৬০০-২০০০ টাকা নিয়ে ছোট আকারে চা-এর দোকান চালু করা যেতে পারে। বড় আকারে চা-এর দোকান শুরু করতে চাইলে যদি নিজের কাছে প্রয়োজনীয় পুঁজি না থাকে তাহলে স্থানীয় ঋণদানকারী ব্যাংক(সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক),সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (আশা,গ্রামীণ ব্যাংক, ব্রাক, প্রশিকা) থেকে শর্ত সাপেক্ষে স্বল্প সুদে ঋণ নেয়া যেতে পারে।

প্রশিক্ষণ

চা-এর দোকান করার জন্য আলাদা কোন প্রশিক্ষণের দরকার নেই। তবে চা-এর দোকান আছে এমন লোকের কাছ থেকে ধারণা নেয়া যেতে পারে। চায়ের দোকানে সহকারী হিসেবে কাজ করেও চা-এর দোকান পরিচালনা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। 

 

প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান 

  • স্থায়ী উপকরণ  
উপকরণ
পরিমাণ আনুমানিক মূল্য (টাকা)  

প্রাপ্তিস্থান

বেঞ্চি
৩টি ৪৫০-৫০০ কাঠমিস্ত্রির দোকান
কেটলি (বড়)
১টি ৩০০-৩৫০ তৈজসপত্রের দোকান
কাপ-পিরিচ
৬টি করে ৩০০-৩৫০  

তৈজসপত্রের দোকান

প্লাস্টিকের বৈয়াম
৪টি ৭০-৮০ তৈজসপত্রের দোকান
বিস্কুট রাখার টিনের পাত্র
২টি ৬০-৭০ তৈজসপত্রের দোকান
ঠোঙ্গা
২০টি ২০-২২ স্টেশনারি দোকান
পানির গ্লাস
৬টি ১০০-১২০ তৈজসপত্রের দোকান
                                      মোট=১৩০০-১৪৯২ টাকা

 

  • কাঁচামাল (১ম দিনের জন্য)                                                                                  
উপকরণ
পরিমাণ আনুমানিক মূল্য (টাকা)  

প্রাপ্তিস্থান

চা-পাতা
১ প্যাকেট ৬৫-৭০ মুদি দোকান
কনডেন্স মিল্ক
(কৌটায় তরল দুধ)
১টি ৬০-৭০ মুদি দোকান
পাউরুটি
১ প্যাকেট ২৫-৩০ বেকারী
বিস্কুট
৩টি প্যাকেট ৪০-৫০ বেকারী
কলা
১ ডজন ৩০-৩৫ ফলের দোকান
চিনি
৫০০ গ্রাম ৩০-৩৫ মুদি দোকান
প্যাটিস
৬টি ৩০-৩৫ বেকারী
কেক
৬টি ২৪-২৮ বেকারী
                                   মোট=৩০৪-৩৫৩ টাকা

 

চা-এর দোকান পরিচালনার নিয়ম

চা-এর দোকান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলা উচিত। যেমন:-  

 

সুন্দর ব্যবহার ও চাহিদামতো পণ্য সরবরাহ

ক্রেতার সাথে ভালো ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ভালো ব্যবহার পেলে দোকানে ক্রেতা বেশি হয়। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী চা বানালে ভালো হয়। যেমন কেউ বেশি দুধ, চিনি পছন্দ করে আবার কেউ কম, কেউ কেউ আবার শুধু রঙ চা পছন্দ করে। সেক্ষেত্রে ক্রেতার পছন্দকে গুরুত্ব দিতে হবে। অনেকে কনডেন্স মিল্ক পছন্দ করে অনেকে আবার গরুর দুধ পছন্দ করে সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।  

 

ভালো পণ্য রাখা

বাজারে খোলা চা-পাতার মান ভালো হয় না। বাজারের সেরা চা-পাতা রাখলে চা বিক্রি বেশি হবে। আবার অন্যান্য যেসব খাবার রাখা হয় তা যেন পচা বাসী না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

 

পরিস্কার-পরিছন্নতা  

চা-এর দোকান পরিস্কার পরিছন্ন রাখা খুবই জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে যেন দোকানের আশপাশের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে না হয়। কাপ-পিরিচও পরিস্কার রাখতে হবে। বিশুদ্ধ পানি রাখতে হবে এবং পানির গ্লাস যেন পরিছন্ন হয়। একজনের চা-পানের পর তার ব্যবহৃত কাপটি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

 

ছোট টেলিভিশন রাখা যেতে পারে  

আজকাল গ্রামগঞ্জে বা শহরে সব জায়গাতেই টেলিভিশনের জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়। দেশ-বিদেশের খবর বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখার জন্য টেলিভিশনের বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে যদি সম্ভব হয় একটি ছোট টেলিভিশন রাখা যেতে পারে; এতে করে দোকানের বিক্রি বেশি হবে। তবে ভ্রাম্যমান দোকানে টেলিভিশন রাখা সম্ভব হয় না।

  • সতর্কতা

অনেক সময় প্রভাবশালী লোক বাকীতে খেতে চায়। এ বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। বাকীর কারণে এক সময় পুঁজিই শেষ হয়ে যায়। আবার অনেক সময় বেশি ভিড়ের মধ্যে ক্রেতা পয়সা না দিয়েই চলে যেতে পারে সেক্ষেত্রেও সর্তক থাকতে হবে। টেলিভিশন থাকলে এ সমস্যা হতে পারে।

 

আনুমানিক আয় ও লাভের পরিমাণ 

  • খরচ (এক দিনের)
স্থায়ী উপকরণের অবচয়(ক্ষতি) বাবদ ৩-৪ টাকা
কাঁচামাল বাবদ ৩০৪-৩৫৩ টাকা
জ্বালানী বাবদ ৩৫-৪০ টাকা
                      মোট=৩৪২-৩৯৭ টাকা

         

 

  • আয় ও লাভ (১ দিনের)

মানিকগঞ্জের মাঠ কর্মের হিসেব অনুযায়ী,

দৈনিক আয় ৪২০-৪৮০ টাকা
দৈনিক খরচ ৩৪২-৩৯৭ টাকা
                      মোট=৭৮-৮৩ টাকা

প্রথমে খুব ছোট আকারে চা-এর দোকান শুরু করা যেতে পারে। লাভের পরিমাণ বাড়লে ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করা সম্ভব।

 

সচরাচর জিজ্ঞাসা 

প্রশ্ন ১ : চা-এর দোকান কোথায় স্থাপন করা যায় ?

উত্তর : রাস্তার মোড়ে, অফিস-আদালতের সামনে, স্কুল, কলেজের পাশে চা-এর দোকান স্থাপন করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ২ : চা-এর দোকান করতে কেমন পুঁজি লাগে ?

উত্তর : আনুমানিক ১৬০০-২০০০ টাকা নিয়ে চা-এর দোকান ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ৩ : চা-এর দোকান করতে কোন প্রশিক্ষণের দরকার আছে কি না ?

উত্তর : চা-এর দোকান দিতে কোন প্রশিক্ষণ দরকার নেই তবে টাকা পয়সার হিসাব ঠিকমত জানতে হবে। সেজন্য কমপক্ষে প্রাইমারি স্কুল পাস হলে ভালো হয়।favicon59-4

Sharing is caring!

Leave a Comment