দক্ষতা অর্জনে চাকরি সহায়ক কোর্স

দক্ষতা অর্জনে চাকরি সহায়ক কোর্স

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

আপনি স্বপ্নবাজ! প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্নে বিভোর থাকেন। কিন্তু স্বপ্ন কী? আপনার হাত ধরে যা বাস্তবায়িত হবে তাই মূলত স্বপ্ন। তা না হলে স্বপ্ন আর সত্যির মধ্যে একটু ফারাক থেকেই যায়। হাতের নাগালে সাফল্য এলেও তাকে মুঠোবন্দি করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজনে রুটিন করে নিজেকে একটু ঘষেমেজে তৈরি করে নেওয়া।


জন্মগতভাবে মেধা-যোগ্যতা যতই প্রখর হোক, দক্ষতা উন্নয়ন বা স্কিল ডেভেলপমেন্ট এমন একটা জিনিস, যেটা শিখে নিতে হয়। নইলে মেধা বা যোগ্যতা কাজে লাগানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

চাকরি সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন হয়ে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে একজন অনভিজ্ঞ তরুণও খুব ভালো একটি চাকরি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। এ জন্য কলেজ-ইউনিভার্সিটি টপকানোর আগে যদি নিজেকে দক্ষ করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায় চাকরির ইঁদুর দৌড়ে নিজেকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই আবিষ্কার করবেন। স্কিলটা একটু ডেভেলপ করতে পারলেই অভিজ্ঞতা না থাকলেও আত্মবিশ্বাসী-উদ্যমী তরুণের সামনে_ ‘স্কাই ইজ দ্য লিমিট!’
  • ভাষায় প্রথম পাঠ  
ভাষা দিয়েই শুরু। এসএসসি আর এইচএসসিতে জোড়া এ-প্লাস থাকা ছাত্রকেও দেখা যায় ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন। কারণ আর কিছুই নয়, ভাষা হিসেবে ইংরেজিতে সড়গড় না হওয়া। অনেকেই ইংরেজিটা ভালো পড়াতে পারেন, লিখতে পারেন, গ্রামারের যে কোনো প্যাঁচ সমাধান করে দিতে পারেন। শুধু পারেন না ভাষাটা স্বচ্ছন্দে অনর্গল বলতে। এ জন্য ম্যাল্টিন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের জব ইন্টারভিউতে ভালো ভালো ছাত্র আত্মবিশ্বাস হারিয়ে খালি হাতে ফিরে আসেন! এ সমস্যা সমাধানে অসাধ্য সাধন করতে হবে না।

স্রেফ প্র্যাকটিস করতে হবে। এর জন্য পরিবারের কোনো সদস্য, বন্ধু-বান্ধব বা সহপাঠীর সঙ্গে নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করুন। এভাবে জুতসই মনে না হলে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে ইংলিশ ক্লাব আছে_ সেগুলোয় যোগ দেওয়া যেতে পারে। আরও রয়েছে বাণিজ্যিক ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এগুলো ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের বই, টিউটোরিয়াল অডিও-ভিডিও আর ওয়েবসাইট। ইংরেজির দক্ষতাটা প্রতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পর্যায়ে নিতে চাইলে রয়েছে আইএলটিএস পরীক্ষা।

  • কম্পিউটার-দক্ষতা 

এখন অফিসিয়াল সব কর্মকাণ্ড হয়ে পড়েছে কম্পিউটারনির্ভর। তাই কম্পিউটারের ওপর দক্ষতা না থাকলে চাকরি জোটানো অনেকটা অসম্ভব ব্যাপার। কম্পিউটারের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য দেশের আনাচে-কানাচে রয়েছে প্রচুর কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। এগুলোর মধ্য থেকে মানসম্মত কোনো একটা বেছে নিতে হবে। এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ বই, ভিডিও টিউটোরিয়াল ও ওয়েবসাইট। বাড়াতে হবে টাইপিং স্কিল, জানতে হবে অফিস সফটওয়্যারের ব্যবহার, ওয়েব ব্রাউজিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, ধারণা রাখতে হবে প্রাথমিক হার্ডওয়্যার ট্র্যাবলশুটিংয়ের ওপর। এই বিষয়গুলো ঠিকমতো রপ্ত করতে পারলে ইন্টারভিউ কিংবা পরীক্ষায় হীনম্মন্যতায় ভুগতে হবে না।

কম্পিউটারের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রফেশনাল প্রশিক্ষণ নেওয়া যেতে পারে। এর জন্য করে নেওয়া যায়_ ডিপ্লোমা ইন আর্কিটেকচারাল ভিজুয়ালাইজেশন, ডিপ্লোমা ইন থ্রিডি অ্যানিমেশন অ্যান্ড ভিজুয়াল এফ-এক্স, ডিপেল্গামা ইন ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ডিপ্লোমা ইন হার্ডওয়্যার অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন ওয়েব অ্যান্ড ই-কমার্স ও ডিপেল্গামা ইন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলো। এ ছাড়া থ্রিডি ম্যাক্স, মায়া, মাল্টিমিডিয়া, ম্যাক্রো মিডিয়া ফ্লাস, ভিডিও এডিটিং, অটো ক্যাড, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন, অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ডাটাবেজ প্রোগ্রামিং, কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, প্রফেশনাল আউটসোর্সিং অন গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশন/ গেম ডিজাইন, হার্ডওয়্যার মেইনটেন্যান্স, নেটওয়ার্ক সার্টিফিকেশন, সিসিএনপি, উইন্ডোজ সার্ভার, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, জুমলা-ওয়ার্ডপ্রেস, অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড পিএইচপি, সিসিএনএ, লিনাক্স, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, আউটসোর্সিংয়ের ওপর সার্টিফিকেট কোর্সসহ বিভিন্ন কোর্স।

  • ড্রাইভিং-ট্রেনিং

ড্রাইভিং শেখাটা এখন অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ কিছু চাকরি রয়েছে, যেখানে আবেদন করার পূর্বশর্ত ড্রাইভিং জানা। মাল্টিন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের ক্ষেত্রেও অনভিজ্ঞ প্রার্থীদের মধ্যে যারা ড্রাইডিং জানেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

  • সংগঠনে সাফল্য

যেসব তরুণ চৌকস, যোগাযোগবান্ধব, আত্মবিশ্বাসী, সিদ্ধান্ত নিতে তৎপর, শেখার আগ্রহ আছে; চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তারাই এক ধাপ এগিয়ে থাকে। এসব গুণাবলি অর্জন করা যায় বিভিন্ন সংগঠনে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে। উন্নতর প্রযুক্তির এই যুগে অনেক কিছু পাল্টে গেছে। যেমন_ এখন একক ব্যক্তির চেয়ে এখন টিমওয়ার্কের সাফল্যের হার বেশি। তাই নিয়োগকর্তার সাংগঠনিক দক্ষতা এবং টিমওয়ার্কের অভ্যস্ত তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। এ ছাড়া সামাজিক বা সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকাটা ব্যক্তির মানবিকতার পরিচয়ও বহন করে। তাই ছাত্রাবস্থায় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকা সময় নষ্ট নয়, সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার করা।

  • পার্টটাইম জব

অনেক চাকরিতে অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির জন্য আবেদন করা যায়। তবে সেখানে সাধারণত অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তার পরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে উদ্যমী, পরিশ্রমী ও প্রত্যয়ী তরুণের জন্য অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে যেসব তরুণ পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পার্টটাইম জবে জড়িত থাকেন, তারা অগ্রাধিকার পান। তাই তরুণদের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি যে কোনো বা পার্টটাইমার হিসেবে কাজ করা।

চাকরির জন্য সবাইকে আগে থেকেই সচেতন হতে হবে এবং শিক্ষাজীবন থেকেই বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে তা কর্মজীবনের জন্য অবশ্যই সুফল বয়ে নিয়ে আসবে। আর নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতায় দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি নিজেকে স্মার্ট করে গড়ে তুলতে পারলে যেখানে সুযোগ আছে, সেখানে অভিজ্ঞদের সঙ্গেও সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়।

লক্ষ্য ঠিক রেখে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে পথে নামুন, সাফল্য ছুটবে আপনার পিছু! favicon59-4

Sharing is caring!

Leave a Comment