পেয়ারা যখন পথ্য

পেয়ারা যখন পথ্য

শিমি আক্তার : পেয়ারা একটি সাধারণ ও সহজলভ্য দেশীয় ফল। গ্রামদেশে অন্তত একটি পেয়ারা গাছ নেই এমন বাড়ি পাওয়া ভার! গ্রীষ্মকালীন এই ফলটির সহজপ্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতার কারণেই এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জানার কৌতুহল আমাদের মধ্যে সচরাচর হয় না। তবে অনেকেই পেয়ারার গুণের কথা জেনে থাকতে পারেন। কিন্তু এত গুণের কথা জানতেন কি? ডায়াবেটিকস, কোষ্ঠকাঠিন্য, হার্ট থেকে ব্রেন প্রায় সবকিছুরই খেয়াল রাখে এই পেয়ারা, কমায় ক্যান্সারের ঝুঁকিও। আজ আপনাদের শোনাবো পেয়ারার আরও কিছু আশ্চর্য গুণের কথা।


খাদ্যগুণ :

সম আকৃতির একটি কমলা অপেক্ষা একটি পেয়ারায় প্রায় ৪ গুণ বেশি ’ভিটামিন সি’ এবং একটি লেবুর চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি ’ভিটামিন এ’ পাওয়া যায়। ফাইবারের চমৎকার একটি উৎস হচ্ছে পেয়ারা, এতে কমলা অপেক্ষা প্রায় ৭০ গুণ বেশি ফাইবার রয়েছে। পেয়ারার অন্যান্য প্রধান খাদ্যগুণের মধে রয়েছে ভিটামিন বি-২ এবং ভিটামিন-ই, ক্যালসিয়াম, কপার, ফোলেট, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাসিয়াম ইত্যাদি।

রোগ প্রতিরোধী ঔষধীগুণ :

পেয়ারার উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এ্যাসকরবিক এসিডকে ’ভিটামিন সি’ এর কারখানা বা পাওয়ার হাউজ বলা হয়ে থাকে, এটি রোগ-ব্যাধির প্রধান শত্রু অক্সিডেশন ও রেডিকেলস এর বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধের জন্য সংগ্রাম করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

Guava2পেয়ারা যেসব রোগের জন্য কার্যকরী :

১. ক্যান্সার : পেয়ারায় থাকা ভিটামিন সি ও পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টাল হিসেবে কাজ করে। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন: পাকস্থলী, খাদ্যনালী, বাগযন্ত্র / স্বরযন্ত্র, মুখগহ্বর, অগ্নাশয় ইত্যাদি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

২. কোলেস্টেরল : ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এর মাধ্যমে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল এল ডি এল -এর অক্সিডেশন শোষণ করে এবং উপকারী কোলেস্টেরল এইচ ডি এল এর পরিমাণ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য : পেয়ারায় রয়েছে ফাইবার যা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হজম ক্ষমতা বাড়ায়, তাই কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে অবশ্যই প্রতিদিন একটা করে পেয়ারা খাবেন। কেননা পেয়ারর ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করতে সহায়তা করে।

৪. ডাইভারটিকিউলিটিজ : পেয়ারার অদ্রাব্য ফাইবার ডাইভারটিকিউলিটিজ রোগের চিকিৎসা ও প্রতিকারের জন্য বিশেষ কার্যকরী।

৫. হৃদরোগ : নিয়মিত পেয়ারা বা পেয়ারার জুস খেলে শরীরের সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের ব্যালান্স ঠিক থাকে। কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে করে ফলে হার্ট থাকে সুস্থ।

৬. দৃষ্টিশক্তি : দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখার জন্য ভিটামিন এ দরকার। পেয়ারায় থাকা ’ভিটামিন এ’ দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. ডায়াবেটিকস : পেয়ারায় রয়েছে অধিক মাত্রায় ফাইবার, এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম তাই ডায়াবেটিকসের জন্য খুবই উপকারী।

৮. গর্ভাবস্থায় : গর্ভবতী মায়েদের প্রচুর পেয়ারা খাওয়া উচিত। কারণ পেয়ারায় থাকা ভিটামিন বি-৯ ও ফলিক এসিড গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুর বিকাশে সাহায্য করে।

৯. সর্দি-কাশি : ভিটামিন সি ও আয়রন প্রচুর পরিমানে থাকার কারণে ডাঁসা পেয়ারা গলা ও ফুসফুসে জমা থাকা কফ সারাতে সাহায্য করে।

১০. দাঁত ব্যথা : পেয়ারার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ দারুণ। এটি দাঁতের জীবাণু মোকাবিলা করে দাঁত ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ফোলা মাড়ি বা মুখের আলসারের বিরুদ্ধেও ভাল কাজ করে পেয়ারা।

962803goyave১১. মস্তিষ্ক : পেয়ারায় রয়েছে ভিটামিন বি-৩ ও বি-৬। মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ফলে মস্তিষ্ক সচল থাকে।

১২. স্ট্রেস : অনেক গুণের মধ্যে পেশির শিথিলতা বাড়িয়ে রিল্যাক্স করতেও সাহায্য করে পেয়ারা। শরীরচর্চা বা কাজের পর পেয়ারা খেলে তাই স্টেস দুর হবে সহজে।

১৩. ওজন : পেয়ারা হজম ক্ষমতা যেমন বাড়ায়, তেমনই কমলা, আপেল, আঙুরের মতো ফলের থেকে পেয়ারায় গ্লুকোজের পরিমাণও কম থাকে। ফলে পেয়ারা ওজন কমাতেও সাহায্য করে ।

এছাড়াও পেয়ারা ত্বকের অনেক পুষ্টি উপাদান যোগান দিয়ে ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে। হাড়ের ক্ষয়রোধসহ শ্লেষ্মার জন্যও উপকারী।

যেভাবে খেতে পারেন পেয়ারা :

পেয়ারার উল্লেখিত বিস্ময়কর গুণাবলী দেখে যাঁরা পেয়ারা খেতে চান না বা পছন্দ করেন না তাঁরা হয়তো চিন্তায় পড়ে গেলেন কিভাবে এটি খেয়ে এর খাদ্যগুণ গ্রহণ করবেন? পেয়ারা অনেক ভাবেই খাওয়া যায়, কাঁচা পেয়ারায় খাদ্যগুণ বেশি থাকায় প্রথমে কাঁচাটাই চিবিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন, যদি না পারেন তাহলে ছোট ছোট টুকরো করে পরিমাণ মতো কাসুন্দী, কাঁচা মরিচ ও বিট লবন মিশিয়ে খেতে পারেন, এতে মুখের রুচী বাড়বে এবং ভিন্ন স্বাদও পাবেন। পেয়ারা পাকলে নরম ও মিষ্টি হয় তাই পাকা পেয়ারাও খেতে পারেন। তাছাড়া পেয়ারার বিচি ছাড়িয়ে জুস বা জেলি বানিয়েও খেতে পারেন। favicon5

Sharing is caring!

Leave a Comment