‘প্রোগ্রামিংয়ের আরও বই লিখতে চাই’

‘প্রোগ্রামিংয়ের আরও বই লিখতে চাই’

  • লিডারশিপ ডেস্ক

তামিম শাহরিয়ার সুবিন। সফটওয়্যার প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা, লেখক ও শিক্ষাকর্মী। এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন নিজের ভালোলাগা মন্দলাগাসহ নানা কথা। নবীন সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের জন্য দিয়েছেন উপদেশ।


  • আপনি ৮ বছর ধরে পেশাদার সফ্টওয়্যার ডেভেলপার, কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে আপনি কোড করতে ভালবাসেন ও কেন ?

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন সি-তে প্রচুর কোড করেছি। জাভাও ব্যবহার করেছি। আর পেশাগত কাজে পার্ল, পিএইচপি, জাভাস্ক্রিপ্ট, অ্যাকশন স্ক্রিপ্ট ও পাইথন ব্যবহার করেছি। এখন পাইথনে কোড করতে ভালোবাসি, কারণ পাইথন ল্যাঙ্গুয়েজটা বেশ পরিপাটি ও সুন্দর। আর আমার পরবর্তি কর্মস্থলে গুগলের তৈরি গো (গোল্যাঙ্গ) ও নোডজেএস ব্যবহার করতে হবে। এগুলো অবশ্য এখনও শিখিনি।

  • আপনাদের “WhatsUp” অ্যাপ যেটি ১০০,০০০ এরও বেশি ডাউনলোড হয়েছে। কিভাবে এই অ্যাপের আইডিয়া পেলেন?

এটা ২০১১ সালের ঘটনা। আমরা মুক্তসফটে তখন দুইজন নতুন ডেভেলাপার নিয়োগ করি, যাদের একজনের ছিল আইওএস ও আরেকজনের কাজ ছিল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলাপমেন্ট। তো নতুন ডেভেলাপার নিলে তাদেরকে এমনিতে একটা প্রজেক্ট দিতাম, যেটি করে ওরা কাজ শিখবে। তাই তাদের জন্যও একটি প্রজেক্ট চিন্তা করি। আমি আর মাহমুদ অফিসে আলাপ করতে করতেই এই অ্যাপের আইডিয়া বের করি ও নামকরণ করি। ওইসময় মোবাইল সাইডটা মাহমুদ দেখত। আমি অ্যাপের আর তেমন খোঁজ খবর রাখি নাই। তো অনেকদিন পরে দেখলাম যে অ্যাপটা আর চলে না। কারণ ততদিনে টুইটার, ফেসবুক এসবের এপিআই অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। তখন আমি উদ্যোগ নিয়ে দুইজন ডেভেলাপার দিয়ে অ্যাপগুলো আবার তৈরি করি, আগের চেয়ে ছোট স্কেলে। আর অ্যাপে বিজ্ঞাপন যুক্ত করি। সেই বিজ্ঞাপন থেকে আমরা পরবর্তি সময়ে বিশ হাজার ডলারেরও বেশি আয় করি। বর্তমানে আমি অন্য দিকে ব্যস্ত থাকায় অ্যাপটি আর তেমনভাবে মেইনটেইন করা হচ্ছে না। তাই এটি থেকে আয়ও প্রায় বন্ধ। আসলে টাকা সবসময় সব কাজে আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে না।

  • ‘কোড ইট গার্ল’ সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?

কোড ইট গার্ল আসলে আমার কয়েকজন সাবেক সহকর্মীর উদ্যোগ। আর আমিও তাদের সাথে আছি মেন্টর হিসেবে। আমি এমনিতে স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি, গণিত অলিম্পিয়াডে যেটি দীর্ঘদিন করেছি। তাই তাদের প্রথম ওয়ার্কশপে, যেটি ছিল স্কুল-কলেজের মেয়েদের জন্য প্রোগ্রামিং ওয়ার্কশপ, সেই ওয়ার্কশপ আমি আর রাফি মিলে ডিজাইন করি এবং সেখানে ট্রেইনারের কাজ করি। ব্যাপারটি ছিল চমৎকার অভিজ্ঞতা। কোড ইট গার্লের মাধ্যমে আমি মেয়েদের এই বার্তাই দিতে চাই যে, প্রোগ্রামিং মোটেও কেবল ছেলেদের বিষয় নয়। এটি তোমরাও করতে পার। এর জন্য জিনিয়াসও হতে হয় না। কেবল পরিশ্রম আর ধৈর্য্য থাকলেই চলবে। পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রামার ছিলেন একজন মেয়ে (অ্যাডা লাভলেস), আবার প্রথম যিনি প্রোগ্রামে বাগ-এর ধারনা নিয়ে আসেন, তিনিও একজন মেয়ে (গ্রেস হোপার)। তাই তোমাদেরও প্রোগ্রামিং করতে পারতে হবে, পারতেই হবে। নইলে তোমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার, বাংলাদেশের ভবিষ্যত অন্ধকার।

  • ‘কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বই’ নামে আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে। যারা প্রোগ্রামিংএ নতুন তারা এ ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে উপকৃত হতে পারে?

ওয়েবসাইট থেকে পুরো কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বইটি বিনামূল্যে (ফ্রি) পড়া যায়। কোনো কিছু না বুঝলে সংশ্লিষ্ট চ্যাপ্টারের শেষে মন্তব্য করা যায় যাতে অন্যকেউ উত্তর দিতে পারে। ওয়েবসাইটে ৪০টির মতো প্রোগ্রামিং সমস্যা দেওয়া আছে, সেগুলো বাংলায় এবং নতুনদের জন্য উপযোগি। সমাধান জমা দিলে তৎক্ষণাৎ জানা যায় যে সমাধান সঠিক হল কী না। তাই বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের জন্য এটি হচ্ছে আদর্শ স্থান যেখান থেকে তারা প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করতে পারে।

  • ডেভেলপমেন্টের জন্য কোন অপারেটিং সিস্টেম(ওএস) আপনি ভাল মনে করেন ?

লিনাক্সভিত্তিক যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমই ভালো। আমি উবুন্টু ব্যবহার করি গত আট বছর যাবৎ। তবে ডট নেট প্রোগ্রামারদের জন্য উইন্ডোজ ভালো।

  • সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জন্য কোন সাইট বা ব্লগগুলো আপনি নিয়মিত ভিজিট করেন ?

আমি আমার টুইটার ফিডে চোখ রাখি, সেখানে যাদেরকে ফলো করি, তারা ইন্টারেস্টিং কিছু শেয়ার করলে সেগুলো পড়ি। মাঝে মাঝে হ্যাকার নিউজ দেখি। আগে কোডপ্রজেক্ট ও এসিএম টেকনিউজ ফলো করতাম, এখন আর করা হয় না।

  • এমন কোনো প্রোজেক্ট বা প্রোডাক্ট আছে কি যেটি নিয়ে আপনি গর্ব বোধ করেন ?

আসলে এখনও মনের মতো চ্যালেঞ্জিং কোনো প্রোজেক্ট করতে পারলাম না। ২০১১-১২ সালের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিস্টেমটা আমার ডিজাইন করা ছিল। বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের ওয়েবসাইট ফল প্রকাশের দিনই ডাউন হয়ে যায়, কিন্তু সেই সিস্টেমটি ছিল ব্যাতিক্রম, এক মিলিয়ন হিট ঠিকঠাক সামলাতে পেরেছে। কিন্তু আমি আসলে গর্ববোধ করতে পারতাম যদি পরবর্তি সময়ের ওয়েবসাইটগুলোও ঠিকভাবে বানানো হত, যেটি হয় নি।

subeen-15-year-agoএছাড়া বর্তমানে আমি আমেরিকার যেই প্রজেক্টে কাজ করি, সেটি নিয়ে গর্ব করা যায় একারণে যে আগে একটি ভারতীয় কোম্পানী ওই প্রজেক্ট নিয়ে ফেইল করেছে, পরে আমি বাংলাদেশ থেকে আমার টিম দিয়ে এটি করে দেই। তবে আমার মতে ওই কোম্পানীর ব্যর্থতার মূলে যতটা না কারিগরি দক্ষতার অভাব ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল যোগাযোগের দক্ষতার অভাব।

আবার মুক্তসফটের ছোট্ট একটি মোবাইল অ্যাপ নিয়েও চাইলে গর্ব করা যায় যেটি মূলত আমার আইডিয়া ছিল এবং ডেভেলাপারদের দিয়ে তৈরি করতে এক মাসের কম সময় লেগেছিল কিন্তু সেটি এখন পর্যন্ত সাত অঙ্কের টাকা আয় করেছে। এটি হয়ত ব্যবসায়ীক দৃষ্টিকোণ থেকে গর্বের হতে পারে। কিন্তু টেকনিক্যাল দিক থেকে আসলে তেমন কোনো কাজ আমি এখনও করি নি যেটি নিয়ে আমি গর্ব করতে পারি। তবে আমার লেখা প্রোগ্রামিং বইটিকে আমি একটি প্রোডাক্ট হিসেবে ধরি এবং যখন দেখি আমার পাঠকরা প্রোগ্রামিংয়ে ভালো করছে, তখন ভালো লাগে। একই কারণে দ্বিমিক কম্পিউটিং নিয়েও আমি গর্ব করি কারণ এটি মানুষের উপকার করছে।

  • আপনার ভবিষ্যতে কি কোন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছে আছে?

আপাতত আর নতুন প্রতিষ্ঠান করার ইচ্ছা নাই। দ্বিমিক কম্পিউটিং ও দ্বিমিক প্রকাশনী – এই দুটো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করছি। তবে আমার জন্য সুখের ব্যাপার হচ্ছে, এ দুটি প্রতিষ্ঠান যদি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থও হয়, তবুও এতে বাংলাভাষাভাষী মানুষের অনেক উপকার হবে।

  • আপনার যখন কাজের প্রতি খুব বেশী একঘেয়েমি আসে তখন আপনি কি করেন?

আমার কাজের প্রতি খুব বেশি একঘেঁয়েমি আসলে আমি সেই কাজটা ছেড়ে দেই। আমি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা দিয়ে। এক সেমিস্টার পড়ানোর পরেই সেটা একঘেঁয়ে কাজ মনে হচ্ছিল, তাই দুই সেমিস্টার পূর্ণ করে আমি চাকরি ছেড়ে দেই। টাইগার-আইটি’তে আমার ক্রলার নিয়ে কাজ করতে হত। ৬ মাস কাজ করার পরে সেটাও বেশ একঘেঁয়ে ও বৈচিত্রহীন লাগছিল। তবে আমি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছাড়ি নি, যেহেতু কোম্পানী আমার পিছনে বিনিয়োগ করেছে, তাই দেড় বছর চাকরি করার পরে আমি সেটা ছেড়ে দেই। মুক্তসফটে দীর্ঘদিন সিইও’র দায়িত্ব পালন করার পরে সেটাও বেশ বোরিং লাগছিল, তাই মুক্তসফটের পুরো দায়িত্ব আমি আমার ব্যবসায়িক পার্টনার মাহমুদের হাতে তুলে দেই (অবশ্যই ওর সাথে আলোচনা করে)। এখন মুক্তসফটে শুধু চেক সাইন করি। আমি বৈচিত্র পছন্দ করি।

  • আপনার প্রতিদিনের কাজ করার জন্য কোন ডিভাইসটি বেশি ব্যবহার করে থাকেন এবং কেন ?

আমার ল্যাপটপ, কারণ এটি ছাড়া তো কাজ করা যাবে না। এছাড়া মাঝে মাঝে টেস্টিংয়ের প্রয়োজনে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ডিভাইস ব্যবহার করি।

  • তিনটি অ্যাপ্লিকেশন,সফটওয়্যার বা টুলস যেগুলো ব্যতিত আপনি একেবারেই চলতে পারেন না ?

লিনাক্স টার্মিনাল, ওয়েব ব্রাউজার ও জিমেইল।

  • আপনার কাজের যায়গাটি কেমন ?

তেমন আহামরি কিছু না, সাধারণ। আলাদাভাবে বলার কিছু নাই। তবে দ্বিমিকের অফিসে আমি অতিরিক্ত একটি মনিটর ব্যবহার করি। এতে কাজ করতে সুবিধা হয়।

  • কাজ করার সময় আপনি কোন ধরনের গান বা কবিতা শুনতে পছন্দ করেন ?

কাজ করার সময় আমি গান শুনতে পছন্দ করি না। যখন গান শুনি, তখন কাজ করি না, শুধুই গান শুনি।

  • আপনার সময় বাঁচানোর সেরা শর্টকাট বা লাইফহ্যাক কি?

রাস্তা-ঘাটে যানযটে সময় নষ্ট করা আমি পছন্দ করি না, যেকারণে আমি চাকরি করি না। সপ্তাহে গড়ে তিন-চারদিন অফিস করি এবং অফিস বাসা থেকে খুব বেশি দূরে নয়, যেহেতু নিজের অফিস।

  • প্রতিদিনের টু-ডু লিস্ট করার জন্য কোন সফটওয়্যার/পন্থা টি আপনার কাছে সেরা মনে হয় ?

আমি প্রতিদিনের টু-ডু লিস্ট করি না। কাজের ট্র্যাক রাখার জন্য ট্রেলো ব্যবহার করার চেষ্টা করি।

  • একজন বাংলাদেশি হিসেবে যানজট আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। আপনি যখন যানজটে অলস বসে থাকেন তখন কি করেন ?

আমি রাস্তাঘাটে খুব কম বের হই, তাই যানজটে তেমন একটা পরি না। আগে যানজটে পরলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তা করতাম।

  • আপনার ফোন এবং কম্পিউটার ছাড়াও, কোন গ্যাজেট ছাড়া আপনি চলতে পারবেন না এবং কেন?

গ্যাজেটের উপর আমি তেমন একটা নির্ভরশীল না। আমি নিজের প্রয়োজনে ফোন ও কম্পিউটার ছাড়া অন্য কোনো গ্যাজেট ব্যবহার করি না। কাজের প্রয়োজনে মাঝে মাঝে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহার করি।

  • আপনি কোন সময়টাতে কাজ করতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন ?

সুনির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করাটাই আমার পছন্দ।

  • আপনার দৈনিক ঘুমানোর সময়সূচি কেমন ?

রাত ১২ টা থেকে ১ টার মধ্যে ঘুমাই, সকালে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠি। দুপুরের পরে মাঝে মাঝে আধা ঘণ্টা ঘুমাই। তবে খুব গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ হলে ঘুমাতে একটু দেরি হয়ে যায়।

  • কোন কাজটিতে আপনি সবার থেকে একটু আলাদা, একটু ভালো?

আমি অনেক আলসেমি করতে পারি এবং আরাম-আয়েশ করতে পারি, কোনো কাজ না করে থাকতে পারি। তাই এই ব্যাপারে আমি মনে হয় আলাদা, কারণ আশেপাশের সবাইকে তো অনেক কাজ করতে দেখি।

  • যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে নিজের কাজ করার মানসিকতা ঠিক রাখার জন্য আপনি কি করেন ?

কিছু করি না।

  • একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার কে কোন বইগুলো এবং সিনেমাগুলো অবশ্যই পড়া ও দেখা উচিৎ?

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরে সে তার প্রয়োজন অনুযায়ী বই পড়বে। সফটওয়্যার ডিজাইন, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কোড, কমিউনিকেশন ও ম্যানেজমেন্ট এসব বিষয়ের ওপর বই পড়তে হবে (আমি ধরে নিচ্ছি সে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার আগে ডাটা স্ট্রাকচার, অ্যালগরিদম, অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং, ডিসক্রিট ম্যাথ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স, ডাটাবেজ এসব বিষয়ের উপর বই পড়েছে)। আবার নতুন ল্যাঙ্গুয়েজ বা টেকনোলজি শিখতে চাইলেও বই অথবা ডকুমেন্টেশন পড়তে হবে। প্রফেশনালদের যেহেতু সময় কম থাকে, তাই পুরো বই না পড়ে বিচ্ছিন্নভাবে চ্যাপ্টারগুলো পড়া যায়, আবার বিষয়ভিত্তিক ইন্টারনেটে সার্চ করেও পড়া যায় (আমি যেটা বেশি করি)।

গত পাঁচ-ছয় বছরে আমি এক হাজারের মতো সিনেমা দেখেছি। কোনোটা দেখেই মনে হয় নি যে এটা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের দেখা উচিত। সিনেমা যে যার রুচি ও পছন্দ অনুযায়ি দেখবে। ভালো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য আলাদাভাবে বানানো কোনো সিনেমা আমার চোখে পড়ে নি।

  • আপনি নিজেকে এখন থেকে পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে কোথায় দেখতে চান ?

এসব নিয়ে বেশি ভাবি না, অত বেশি পরিকল্পনাও করি না। তবে সামনের কয়েক বছর অন্য কোনো দেশে থাকতে চাই, একাধিক দেশ হলে ভালো হয়। দিন-দুনিয়া একটু দেখা দরকার। আর বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য আরো কিছু প্রোগ্রামিং বই লিখতে চাই।

  • গুণীজনদের কাছ থেকে পাওয়া এখন পর্যন্ত সেরা উপদেশ আপনার কাছে কোনটি মনে হয়েছে ?

For the things we have to learn before we can do them, we learn by doing them —Aristotle

এটা অবশ্য কোনো গুণীজনের কাছ থেকে পাই নি, টাইপিং শেখার একটা সফটওয়্যার ব্যবহার করতে গিয়ে এটা দেখেছিলাম, আজ থেকে পনের বছর আগে।

  • যারা ভবিষ্যতের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে যাচ্ছে তাদেরকে আরও উৎসাহিত করতে আপনার কোন উপদেশ আছে কি?

এ বিষয়ে আমি আমার ব্লগে (blog.subeen.com) প্রচুর লিখেছি। সারকথা হচ্ছে লেখাপড়া করতে হবে, প্রোগ্রামিং করতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে। কোনো কিছু খুব সহজে হয়ে গেলে বা শর্টকাটে পার হয়ে গেলে বুঝতে হবে যে কোথাও কোনো ফাঁক রয়ে যাচ্ছে এবং সেজন্য ভবিষ্যতে ভুগতে হবে।

সূত্র: হাউ আই ওয়ার্কfavicon59-4

Sharing is caring!

Leave a Comment