গিটারিস্ট হতে চান?

গিটারিস্ট হতে চান?

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

নগরবাউল জেমস গেয়েছেন, ‘ছয়টি তারে লুকিয়ে আছে/ ছয় রকমের কষ্ট আমার/ ফুরিয়ে যাওয়া মানুষের মতো/ নির্ঘুম রাত জেগে জেগে- গিটার কাঁদতে জানে!’ বলি, শুধু কান্না বা বেদনাবোধের জাগরণ নয়, আনন্দ ও উল্লাসের বিস্ফোরক গর্জনও শোনাতে পারে গিটার। এই তুমুল স্টাইলিশ মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টটি তাই তো পৃথিবীর নানা প্রান্তের, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের খুব প্রিয়। তাই গিটার বাজানো যারা শিখতে শুরু করেছেন, চলুন তাদের জানিয়ে দিই কিছু সহজ পরামর্শ:


নিজের গতি

acoustic-guitar-guitar-424199_540_1500আপনার প্রিয় গিটারিস্টের গিটার বাজানোর গতি কেমন- শুরুতেই তা অনুকরণ করতে গিয়ে নিজেকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দেবেন না। বরং বাজাতে বাজাতে আত্মস্থ করে নিন নিজস্ব গতি। তারপর একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে, গতি বাড়ানো-কমানো তো আপনার আঙুলের খেলায় পরিণত হবে; তাই না?

মনোযোগে জোর
যতই প্রতিভাবান আপনি হোন না কেন, রাতারাতি তুখোড় হয়ে ওঠা নিশ্চয় সম্ভব নয়? তাই বলি কী, এত এত ভিডিও ক্লিপস কিংবা কর্ডের নোট একবারে অনুশীলন করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলবেন না। বরং ধাপে ধাপে একেকটি বিষয়ে, একেকটি কর্ডের ক্যারিশমায় মনোযোগ দিন। দেখবেন, এক সময় চোখ বন্ধ করেই বাজাতে পারছেন- মনে যা চায়!

তত্ত্বের দাম
প্রতিভাবান বলে এক ধরনের প্রশংসাবাক্য হয়তো শুরুতেই জুটে গেছে আপনার নামের সঙ্গে। বলি এই অহংবোধে ডুবে, ইচ্ছামতো প্র্যাকটিসে নিজেকে উজাড় করে দিতে গিয়ে, তাত্তি্বক জ্ঞানকে একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না মোটেও। বরং প্র্যাকটিক্যালের সঙ্গে থিওরিটিক্যাল জ্ঞানের একটা সমন্বয় গড়ূন। জেনে নিন ফ্রেটবোর্ডটার মাহাত্ম্য। জেনে নিন কীভাবে আঙুল চালালে কোন কর্ডটি কেমন সাড়া দেয়! আপনার যারা প্রিয় গিটারিস্ট, তাদের ভাবনা ঘাঁটলে নিশ্চয়ই দেখবেন, তত্ত্বকে কেউই উড়িয়ে দেননি।

প্র্যাকটিস প্যাডের ঘড়ি
সারাদিনে কতক্ষণ প্র্যাকটিস করেন আপনি? ঘণ্টার পর ঘণ্টা? না, এমনটা মোটেও ভালো কিছু নয়। কেননা, অতিরিক্ত সবকিছুই খারাপ! বলি, তার চেয়ে বরং সময় মেপে প্র্যাকটিস করুন। ধরুন, দিনে একটানা এক ঘণ্টা প্র্যাকটিসের রুটিন রেখে, প্রয়োজন মতো দম নিয়ে, মোট ৩০-৪০ মিনিট গিটার বাজালেই ভালো। যদি এমনটা চলতে থাকে, তাহলে সপ্তাহ শেষে আপনার প্র্যাকটিস টাইম কিন্তু কম হলো না। উল্টো যদি একদিনে টানা তিন-চার ঘণ্টা প্র্যাকটিস করে, আবার দুয়েক দিন গিটারটা অলস ফেলে রাখেন, তাতে লাভের লাভ তেমন কিছু হবে না!

লজ্জার মাথা খাওয়া
কিছু ভুল হয়ে গেলে লজ্জা পাবেন না; কিংবা হারাবেন না আত্মবিশ্বাস। যে কোনো তুখোড় গিটারিস্টেরও তো ভুল হতে পারে! বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, আরও পুরোদমে লেগে থাকুন গিটারের সঙ্গে।

ভিন্নতার ডাক
নিজের যে স্টাইল পছন্দ, প্র্যাকটিসের বেলায় শুধু সেটিতেই নিজেকে আটকে রাখা ঠিক হবে না। বরং যতটা সম্ভব ভিন্ন ধারার স্টাইলগুলোও অনুসরণ করুন। নিজেকে ঝালিয়ে নিন সম্ভাব্য সব পথে। খুঁজে নিন অনুপ্রেরণা।

রেকর্ড যন্ত্র
রেকর্ডিং ডিভাইস তো এখন একেবারেই সহজলভ্য। আপনার মোবাইল হ্যান্ডসেটটিতেও হয়তো ভালোমানের সাউন্ড রেকর্ড হয়ে থাকে। তাই বলি কি, প্রতিদিনের নির্দিষ্ট সময়ের প্র্যাকটিসের সাউন্ড রেকর্ড করে রাখুন। আর বিশ্রামের সময়ে, কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একবার বাজিয়ে শুনুন। তাহলে সহজেই ধরতে পারবেন নিজের খুঁতগুলো।

দুর্বলতার সঙ্গে লড়াই
নিজের মস্তিষ্কের ওপর বেশি চাপ না দিয়ে বরং খাতা-কলম নিয়ে প্র্যাকটিসে বসার চর্চা করুন। আর লিখে রাখুন নিজের দুর্বলতাগুলো। তারপর সেই নোট ধরে, দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার লড়াই চালিয়ে যান। মনে রাখা ভালো, কোনো দুর্বলতাকে ‘পাত্তা না দেওয়া’টা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

উপভোগই শেষ কথা
গিটার বাজানোকে নিজের দায়িত্ব ভেবে বসে থাকবেন না! তাতে বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকের মতো অনেক সময় অপ্রিয় ও অস্বস্তির হয়ে উঠতে পারে! বরং ভুল কি ঠিক- যা-ই বাজান না কেন, উপভোগ করুন গিটারের সঙ্গে আপনার প্রতিটি মুহূর্ত।

নিজেকে সময় দিন, সময় দিন গিটারকে, নিশ্চয় আপনি হয়ে উঠবেন আগামীর কোনো তুখোড় গিটারিস্ট।

সূত্র: সমকালfavicon59-4

Sharing is caring!

Leave a Comment