প্রাণী চিকিৎসক হতে চাইলে

প্রাণী চিকিৎসক হতে চাইলে

  • ক্যারিয়ার ডেস্ক

শুধু বাংলাদেশ না সারাবিশ্বে চিকিৎসা পেশা দুই ভাগে বিভক্ত। একটি মানুষের চিকিৎসা আর অন্যটি প্রাণী চিকিৎসা। মানুষের চিকিত্সা সেবার জন্য আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রির নাম যেমনি এমবিবিএস তেমনি প্রাণী চিকিত্সার জন্য আন্তর্জাতিক ডিগ্রির নাম ডিভিএম (ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন)। চিকিত্সা সেবায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এটি আর একটি পথ। অবলা ও নিষ্পাপ প্রাণীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার এক উত্তম মাধ্যম এবং সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত এই ভেটেরিনারি নিয়ে পড়াশুনা করা।

পৃথিবীতে ভেটেরিনারি চিকিৎসার সূচনা হয় অনেক আগে তবে বাংলাদেশে ভেটেরিনারি শিক্ষার গোড়া পত্তন হয় ষাটের দশকে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আটশ’র মত ডিভিএম গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে প্রতিবছর। মানুষের সুষম খাদ্যের জন্য প্রয়োজনীয় আমিষের ও চর্বির সঠিক বন্দোবস্ত যাদের হাত ধরে হয়, যারা সেই সকল ফুড এনিমেলের চিকিত্সা সেবা প্রদান করেন তারা ভেটেরিনারিয়ান, শুধু তাই নয় মানুষে সংক্রমিত হয় এমন রোগ যা প্রাণীর কাছ থেকে আসে (জুনুটিক/ সংক্রামক) তা থেকে মানুষকে রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ পাবলিক হেলথ প্রাকিটসের মাধ্যমে করে এটি। প্রতিনিয়ত গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন উন্নত প্রাণীর জাত উদ্ভাবন করে মানুষের উত্তরোত্তর খাদ্য চাহিদা পূরণে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে যুগে যুগে। আর তাই নিজেকে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এই ভেটেরিনারি আপনাকে যোগ্য করে গড়ে তুলবে, সাহায্য করবে স্বনির্ভর উন্নত বাংলাদেশ গড়তে।

যা যা পড়ানো হয়

বিভিন্ন পশু ও পাখির যেমন ফুড এনিমেল, ল্যাব এনিমেল এবং সঙ্গী এনিমেল, পোল্ট্রি, চিড়িয়াখানার পশু-পাখি এবং বন্য প্রাণীর এনাটমি, ফিজিওলজি, হিস্টোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, ভাইরোলজি, ব্যাকে্টরিওলজি,  প্রোটোজলজি প্যাথলজি ও প্যারাসাইটোলজি, ফুড হাইজিন থেকে শুরু করে প্রাণী পালন, ডেইরি ব্যবস্থাপনা, এনিমেল নিউট্রিশনসহ মেডিসিন (ফার্ম এনিমেল, স্মোল এনিমেল) প্রভৃতি। অসুস্থ হলে চিকিত্সার জন্য মেডিসিন, অস্ত্রোপচারের সাহায্যে সুস্থ করার জন্য সার্জারি, মানুষকে সঠিক মানসম্মত খাদ্য পর্যবেক্ষণের জন্য ফুড হাইজিন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পাবলিক হেলথসহ অসংখ্য বাস্তবিক ও গবেষণালব্ধ জ্ঞানের চর্চা হয় এখানে।

ক্যারিয়ার

বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশে ভেটেরিনারিয়ানদের অবস্থান অনেক শীর্ষে। সমাজে তাদের নাম ডাক ও অবদান আছে অনেক। বাংলাদেশে সরকারিভাবে মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় পর্যায়, জেলা ও উপজেলায় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে ভেটেরিনারি সার্জন বিসিএস ক্যাডার, গবেষণা ইনস্টিটিউটগুলোতে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীতে কমিশনার হিসেবে কাজ করে, ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ইউনিটে কাজ করার সুবিধা, সিটি করপোরেশনে ও পৌরসভায় ও বাজার পর্যবেক্ষক হিসেবে ইত্যাদি কাজে নিয়োগ পায় ভেটেরিনারি ডাক্তাররা।

তাছাড়া আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাসমূহ, বেসরকারি বিভিন্ন পোল্ট্রি শিল্পে, ডেইরি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ভেটেরিনারি ডাক্তার হিসেবে, সর্বোপরি নিজে একজন বড় উদ্যোক্তা হয়ে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারা।favicon59-4

Sharing is caring!

Leave a Comment