২২ বছরে কোটিপতি হওয়ার ৭ মন্ত্র

২২ বছরে কোটিপতি হওয়ার ৭ মন্ত্র

সাবরিনা তাবাসসুম : এই লেখাটি লেখার সময় টাকার হিউস এর বয়স ছিল ২২। গত ১২ মাসে তিনি ১ মিলিয়ন ডলার আয় করেন এক প্রতিযোগিতামূলক শিল্প থেকে যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের বয়স ছিল তার দ্বিগুণ। ২০ বছর বয়সে নাম করা এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ৫০ টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছেন তিনি। ট্রাইএ্যাথলন (এ্যাথলেটিক কন্টেস্ট) এ অংশগ্রহণ করেছেন ১৩ বার। সব মিলিয়ে একটি আনন্দময় জীবন যাপন করছেন তিনি।

স্নাতক শেষ করে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে চলে আসেন তার পরিবারের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার প্রয়োজনে একটি নতুন অফিস শুরু করার জন্য। প্রথম কয়েক মাসের মারাত্মক পরিশ্রমের পর তিনি বুঝতে পারলেন যে সাফল্য এতটা সহজ নয় যতটা সহজ তিনি ভেবেছিলেন। জীবনে অনেক কিছু দ্রুত অর্জনকারী হওয়া স্বত্তেও তিনি বুঝতে পারলেন যে বাস্তবতা কত কঠিন। তিনি বুঝতে পারলেন যে ব্যবসায়িক সাফল্য সম্ভব মনের জোর আর সৃজনশীল চিন্তাধারার মাধ্যমে। তার মতে নিচের এই ৭টি মানসিক পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তিনি ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে পেরেছেন।


holding-money

০১। বয়স কোন ব্যাপার নয়

আপনার তারুণ্যকে মন প্রাণ দিয়ে কাজে লাগান। আপনার তারুণ্যের মাধ্যমেই নিয়ে আসতে পারেন বড় রকমের পরিবর্তন। সফল না হওয়ার জন্য যখনই আপনি অজুহাত খুঁজতে থাকবেন ঠিক সেই সময় থেকেই আপনার নিশ্চিত পরাজয় শুরু। যদি আপনি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে “আমি পারব”, তাহলে আপনি সত্যিই পারবেন। তাছাড়া একজন তরূণ পেশাদার তখনই সমাদৃত হন যখন তিনি পরিশ্রমী, বুদ্ধিমান এবং উদ্যমী হন।

০২। নতুন রূপে নিজেকে গড়ে তুলুন

টাকার বলেন “আমি সবচেয়ে ভালো যে বিনিয়োগটা করেছি সেটা ছিল আমার নিজের ভবিষ্যতের উপর। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট পড়ুন, খুঁজে বের করুন আপনার জন্য একজন অভিজ্ঞ এবং বিশ্বাসী পরামর্শক। শুধু নিজের ক্ষেত্রেই পারদর্শী হলে হবে না, আপনাকে এমন একজন হতে হবে যে সব বিষয়ে যেমন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অথবা খেলাধুলা বিষয়ক কথা বলতে সক্ষম। যতটুকু পারুন জ্ঞান অর্জন করুন। একঘেয়ে জীবন থেকে বের হয়ে আসুন”।

০৩। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবেন না

মানসিক শক্তি বৃদ্ধিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শিখুন। যত দ্রুত সম্ভব সহজ সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমে আপনার মানসিক শক্তিকে সচল রাখুন। ফলে বিভিন্ন রকমের কাজ আপনি অন্যের সাহায্য ছাড়াই করতে পারবেন। অনুশীলন করতে পারেন দৈনন্দিন ছোট ছোট কাজের সিদ্ধান্ত দ্রুত নেয়ার মাধ্যমে, যেমন পরের দিন সকালে কর্মক্ষেত্রে কী পরে যাবেন অথবা আগামীকাল কি নাশতা করবেন ইত্যাদি।

০৪। মনকে প্রাণবন্ত রাখুন

‘কোন কাজ ফলপ্রসূ ভাবে করার সামর্থ্য’ – এই বৈশিষ্টটিই পার্থক্য তৈরি করে সাধারণ ঘটনা এবং উচ্চ সাফল্যের মাঝে। যেটা চাচ্ছেন সেটার দিকে আপনার মনোযোগ স্থির রাখুন। নিজের মানসিক শক্তি যদি আপনি নিজেই বৃদ্ধি করতে না পারেন তাহলে আপনি আপনার সেই সব প্রতিযোগীদের কাছে হেরে যাবেন যারা বাণিজ্যিক বিশ্বে যুগ যুগ ধরে তাদের সহনশীলতা এবং ধৈর্য শক্তি ধরে রেখেছেন। মনোযোগ ধরে রাখার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দিনের শেষে দৈনন্দিন কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করুন এবং নিজের উন্নতিসাধনের আরো সুযোগ গুলো খুঁজতে থাকুন।

০৫। সুদূরপ্রসারী চিন্তা করুন

নিজেকে দীর্ঘ সময় পরে কীভাবে দেখতে চান সেই পরিকল্পনা গুলোকে সাজিয়ে নিন। যদি এখনো না করে থাকেন তাহলে আজকে থেকেই আগামী ১ বছর, ৫ বছর, ১০ বছরের পরিকল্পনা বা লক্ষ্যগুলো কী কী হতে পারে তা তৈরি করে ফেলুন। এখন চিন্তা করে দেখুন যে এমন কী করা যায় যার মাধ্যমে আপনি আগামী ১০ বছরের লক্ষ্যগুলো মাত্র ১ বছরেই অর্জন করতে পারবেন।

০৬। নিয়মনিষ্ঠতা বজায় রাখুন

প্রথমে কাজের পরিকল্পনা করুন এবং এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করুন। কয়েক ধাপে পরিকল্পনা করুন। একটি যুক্তিসম্মত নিয়মে পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন যেন তা কখনো বিরক্তিকর রূপ ধারণ না করে। বিশ্লেষণ মূলক, প্রশাসনিকসহ যে কোন ধরনের কাজেই দৃঢ় সাংগঠনিক প্রক্রিয়া বজায় রাখুন যা আপনার দক্ষতা উন্নয়নে সাহায্য করবে।

০৭। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন

যদি নিজেই নিজের উপর বিশ্বাস না রাখতে পারেন তাহলে অন্যরা কীভাবে রাখবে? প্রতিটি ব্যর্থ মানুষেরই কিছু অজুহাত থাকে। অপর দিকে সফল মানুষদের থাকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার গল্প। এমন চ্যালেঞ্জ যেগুলো তারা বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে জয় করেছেন। যদি আপনি এখনও কোন কিছু শুরু করতে দ্বিধায় ভুগে থাকেন তাহলে এখনই দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়ে উঠুন যেন আপনার দৈনন্দিন কাজের প্রতিটা মুহূর্তকে আপনি পুরোপুরি ভাবে জয় করা শিখতে পারেন।

সহজ ভাবে সবকিছু দেখুন এবং মনে রাখবেন, – সাফল্য কোন সুবিধা ভোগের মত সহজ নয়। যদি আপনি সত্যিই জীবনে এগিয়ে যেতে চান তাহলে বের হয়ে আসুন জড়তা থেকে এবং প্রতিদিনের সাফল্য অর্জন করা শিখুন।

favicon594এন্টারপ্রেনার অবলম্বনে

Sharing is caring!

Leave a Comment