আমি কেন ‘রিয়েল এস্টেট’ বিষয়ে পড়লাম

আমি কেন ‘রিয়েল এস্টেট’ বিষয়ে পড়লাম

  • শাহীদুজ্জামান খান শাহী  

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ নিয়ে পাশ করে বের হওয়ার পরে সুযোগ ছিলো দেশের বেশ কিছু ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা সব ডিপার্টমেন্ট গুলোতে উচ্চর শিক্ষা অর্জন করার। তবে ব্যক্তি হিসেবে আমি সর্বদাই চেষ্টা করি গতানুগতিক ধারার বিপরীতে যেয়ে কিছু করতে। বর্তমান সময়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীরা ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেই ঝাঁপিয়ে পরে মেডিকেল কলজে, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম কিংবা বিজনেসের প্রোগ্রাম গুলোতে। ব্যাতিক্রম চিন্তা করতে যেয়ে নজরে আসলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অনন্য ডিপার্টমেন্ট “রিয়েল এস্টেট” এর দিকে। দেশে প্রায় দেড় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মাঝে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ডিপার্টমেন্ট অফ রিয়েল এস্টেট যা বর্তমানে শুধুমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে।

মানুষের মৌলিক অধিকার গুলো হচ্ছে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং বাসস্থান। বাসস্থানের সংজ্ঞায় বলা আছে এটি হচ্ছে সেই স্থান যেখানে মানুষ নিরাপত্তার সাথে ঘুমাতে পারে। যতদিন এই জগতে মানবজাতি বেঁচে থাকবে ততদিন চাহিদা থাকবে এই বাসস্থানের। আমাদের দেশে এই বিশেষ শাখাটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মানুষের রয়েছে অভাব। তাই আছে দক্ষ লোকের চাহিদা। নিজেকে গড়ে তুলতে পারলে চাকুরীর বাজারেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আছে সুযোগ। মূলত এই ভাবনা থেকেই আমার যাত্রা শুরু হয় রিয়েল স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাথে। আজ প্রায় ২ বছর হতে চলেছে সেই যাত্রার।

লেখক। ছবি: সংগৃহীত।

ডিপার্টমেন্ট সম্পর্কে কিছু তথ্য না দিলেই নয়। আমাদের ডিপার্টমেন্টটিতে রয়েছেন কিছু দক্ষ মানুষ গড়ার কারিগর। এডভাইসিং প্যানেল থেকে নিয়ে ফ্যাকাল্টি সহ সবারই রয়েছে এই শাখায় অভূতপূর্ব সাফল্য এবং জ্ঞান। যে কারণে কোর্স কারিকুলাম তৈরী করা থেকে নিয়ে তা সঞ্চালনায় আছে দূর্দান্ত পেশাদারিত্ব। জেনারেল এডুকেশন ডেভলপমেন্টাল, সিভিল, আর্কিটেকচার এবং বিজনেসের বিভিন্ন কোর্সের পাশাপাশি রিয়েল স্টেটের গুরুত্বপূর্ণ সব কোর্স নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রোগ্রাম। শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলার জন্য প্রায়শই আয়োজন করা হয় বিভিন্ন ওয়ার্কশপ এবং সেমিনার। আমাদের অন্যতম সেরা সাফল্য শতভাগ চাকুরীর নিশ্চয়তা। ভর্তি হওয়ার আগে থেকেই শুনে আসছিলাম এই শতভাগ চাকুরীর বিষয়টি। তবে বলতে দ্বিধা নেই গত দুই বছরে স্বচক্ষে তার প্রমাণ পেয়েছি। অ্যালামনাই থেকে শুরু করে নিয়ে আমি ছাত্র থাকাকালীন যতজন শিক্ষার্থী পাশ করে বের হয়েছেন তাদের সবাইকেই ব্যাচেলর শেষ করার সাথে সাথেই চাকুরী পেতে দেখেছি। প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার আগেই অর্থাৎ ইন্টার্নশিপ চলাকালীন সময়েই চাকুরীতে যোগদানের অসংখ্য নজির আছে। এর মূল কারণ হচ্ছে এই শাখায় অদক্ষ মানুষের অভাব থাকায় চাহিদা রয়েছে এমন দক্ষ সব শিক্ষার্থীদের যাদের হাত ধরে সুযোগ আছে দারুণ কিছু করার।

আমাদের ডিপার্টমেন্টের একটি দারুণ বিষয় হচ্ছে আমাদের সবার আন্তরিকতা। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে রয়েছে দুর্দান্ত বোঝাপড়া। গোটা ডিপার্টমেন্টটাই একটি পরিবারের মতো। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে তোলার পেছনে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত করে রাখতে আছে ডিপার্টমেন্টাল সংগঠন “রিয়েল এস্টেট এ্যাসোসিয়েশন”।

যাদের লক্ষ্য ব্যাতিক্রমের দিকে, যাদের লক্ষ্য উন্নতমানের চাকুরীর দিকে, যারা চাচ্ছেন দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাদের জন্য অবশ্যই রিয়েল এস্টেট একটি দারুণ পছন্দ হবে। আর যেহেতু এই শাখায় নিঃসন্দেহে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অফ রিয়েল এস্টেটের রয়েছে অসংখ্য সাফল্য সুতরাং শিক্ষার্থীদের জন্য এর সাথে যুক্ত হতে পারাটাও দারুণ সুযোগ হবে বলে মনে করি।

Sharing is caring!

Leave a Comment