কর্মীদের উদ্দেশ্যে বেজোসের চিঠি

কর্মীদের উদ্দেশ্যে বেজোসের চিঠি

  • লিডারশিপ ডেস্ক

আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জেফ বেজোস। তাঁর স্থানে আসবেন অ্যান্ডি জ্যাসি। সে পরিবর্তনের ব্যাপারে জানাতে আমাজনকর্মীদের বেশ আবেগঘন এক ই–মেইল বার্তা পাঠিয়েছেন জেফ। সেখানে আমাজনের বর্তমান প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি জানিয়েছেন আমাজনের সাফল্যের মূল কারণ। কর্মীদের উদ্দেশ্যে বেজোসের ই-মেইল বার্তাটি এখানে বাংলায় তুলে ধরা হলো।


আমার সহকর্মীরা,

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আমি আমাজনের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং অ্যান্ডি জ্যাসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন। নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে আমি আমার কর্মশক্তি ও মনোযোগ নতুন পণ্য এবং উদ্যোগে ব্যয় করতে চাই। আমাজনে অ্যান্ডি আমার মতোই দীর্ঘ সময় ধরে আছেন এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সুপরিচিত। তিনি অসাধারণ একজন নেতা হবেন বলেই আমার পূর্ণ বিশ্বাস।

প্রায় ২৭ বছর আগে এই যাত্রার শুরু। আমাজন তখন কেবল একটি ধারণা, নামধাম কিছুই ঠিক করা হয়নি। সে সময় আমাকে যে প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি করা হতো, তা হলো, ‘ইন্টারনেট কী?’ ভাগ্যিস অনেক দিন সে প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে হয়নি।

আজ আমাদের ১৩ লাখ মেধাবী ও নিবেদিত কর্মী লাখো-কোটি গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করছেন। বিশ্বের সফল প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে আমাজনের সুখ্যাতি আছে।সম্ভব হলো কীভাবে? উদ্ভাবন। আমাদের সাফল্যের মূলে আছে উদ্ভাবন। একসঙ্গে আমরা অদ্ভুত সব কাজ করে তারপর সেগুলোকে মূলধারার বানিয়েছি। গ্রাহক রিভিউ, ওয়ান-ক্লিক, প্রত্যেক গ্রাহকের জন্য আলাদা পরামর্শ, প্রাইম গ্রাহকদের দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়া, জাস্ট ওয়াক আউট শপিং, দ্য ক্লাইমেট প্লেজ, কিন্ডেল, অ্যালেক্সা, মার্কেটপ্লেস, ক্লাউড কম্পিউটিং অবকাঠামো, ক্যারিয়ার চয়েস এবং আরও নানা উদ্যোগে আমরাই পথ দেখিয়েছি। আপনি যদি কাজটা ঠিকভাবে করেন, তাহলে একসময়ের বিস্ময়জাগানিয়া উদ্ভাবনও খুব স্বাভাবিক মনে হবে। ক্লান্ত মানুষই হাই তোলে এবং সেই হাই আসাটাও একজন উদ্ভাবকের জন্য সেরা উপহার হতে পারে।

আমাজনের মতো এত বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে আর কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করে বলে আমার জানা নেই। আর আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে আমরা আমাদের উদ্ভাবনী শক্তির শিখরে আছি। আমি আশা করছি, আমারই মতো আপনারও গর্ব হচ্ছে। আর আমি মনে করি, আপনার গর্বিত হওয়া উচিত।

আমাজন যত বড় হয়েছে, আমরা ততই আমাদের শক্তি ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমাজের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। দুটি বড় উদাহরণ হলো, কমপক্ষে ১৫ ডলার মজুরি এবং ক্লাইমেট প্লেজ। দুটি ক্ষেত্রেই আমরা নেতৃত্ব দিয়েছি এবং অন্যদের আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছি। এখন অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান আমাদের দেখানো পথে হাঁটছে। আমি আশা করছি, আপনারা সেটি নিয়েও গর্বিত হবেন।

আমার কাছে আমার কাজটা বেশ আনন্দ ও গুরুত্ববহ। সবচেয়ে স্মার্ট, মেধাবী ও বিচক্ষণ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি আমি। সুসময়ে আপনারা বিনয়ী থেকেছেন। কঠিন সময়ে শক্ত ও সহমর্মী হয়েছেন। আমরা একে অপরের মুখে হাসি ফুটিয়েছি। এই দলে কাজ করাটাই আনন্দের।

অফিসে আমি এখনো যে হেসেখেলে–নেচে বেড়াই, তা ঠিক, তবে এই পরিবর্তনের ব্যাপারেও আশাবাদী। লাখো গ্রাহক পণ্য ও সেবার জন্য আমাদের ওপর নির্ভর করে, আর ১০ লাখের বেশি কর্মী নির্ভর করে তাঁদের জীবিকার জন্য। আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়া অগাধ দায়িত্বের কাজ। অনেক চাপেরও। যখন আপনার কাঁধে অমন বড় দায়িত্ব থাকে, অন্য কিছুতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে আমাজনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর সঙ্গে আমি যুক্ত থাকব। সে সঙ্গে ডে ওয়ান ফান্ড, দ্য বেজোস ফান্ড, ব্লু অরিজিন, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং আমার অন্যান্য প্যাশনের জন্য শক্তি ও সময় পাব। এটা কোনোভাবেই অবসরে যাওয়া নয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো যে ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নিয়ে আমি খুব আশাবাদী।

ভবিষ্যতের জন্য আমাজনের প্রস্তুতি এর চেয়ে আর ভালো হতে পারে না। আমাদের যেমনটা করা উচিত, সব ক্ষেত্রে ঠিক তেমনই সাফল্যের সঙ্গে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পাইপলাইনে আরও অনেক কিছু আছে, যা মানুষকে ভবিষ্যতেও হতবাক করতে থাকবে। আমরা ব্যক্তিকে যেমন, তেমন প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সেবা দিই। দুটি শিল্প খাত এবং নতুন ঘরানার এক ডিভাইসে আমরাই পথপ্রদর্শক। আমাদের কাজ মেশিন লার্নিং থেকে লজিস্টিকস পর্যন্ত বিস্তৃত। আর কোনো আমাজনকর্মীর আইডিয়া বাস্তবায়নে যদি নতুন কোনো ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হয়, তবে আমরা সেটা শিখতেও রাজি আছি।

উদ্ভাবন করতে থাকুন। কোনো ধারণা দেখে প্রথমে দিশেহারা মনে হলেও নিরাশ হবেন না। সব পথে পা রাখুন। কৌতূহল আপনাকে পথ দেখাক। তবেই এটা ডে ওয়ান (আমাজন কার্যালয়) থেকে যাবে।

জেফ বেজোস

(ইংরেজি থেকে অনূদিত)

সূত্র: প্রথম আলো

Sharing is caring!

Leave a Comment