সবুজায়নে সফল তিন উদ্যোক্তা

সবুজায়নে সফল তিন উদ্যোক্তা

  • রিফাত পারভীন

ছোট্ট ছিমছাম গোছানো একটা ছাদ। যে দিকে তাকাবেন সে দিকেই দেখতে পাবেন সবুজের সমারোহ। এমন একটা ছাদ কে না চাইবে? কিন্তু সবুজের মধ্যে বসবাসের ব্যবস্থা আছে কতটুকু? আর সময়ের অভাবে তো অনেকেরই ইচ্ছা থেকে যায় অপূর্ণ। তাই বাড়ির ছাদে বা নিজের ছোট বারান্দাতেই বাগান থাকলে কেমন হয়? এমন একটি চিন্তা থেকেই পথচলা শুরু কৃষি কাজে সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নগরকৃষির।

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, সালটি ২০১৬। শেরে বাংলা কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণ প্রথমে এমন একটি উদ্যোগ নিয়ে ভাবেন। আর তার এই স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে আসেন নগরকৃষির প্রতিষ্ঠাতা কামরুল হাসান।

যারা নিজেদের ছোট্ট পরিসরে বা ছাদে একটু বাগান করতে ভালোবাসেন, তাদের সাহায্য ও উৎসাহ দিতেই নগরকৃষির জন্ম। বললেন কামরুল হাসান।

বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করার আগে মোহাম্মদপুরে একটি ছোট ছাদে তিন মাস সবজি, ফলের বাগান এমন কি মাছ ও মুরগি চাষ করে পরীক্ষা করেন তাঁরা। আর এখানে সফলতা পাওয়ার পরই বাড়িতে বাড়িতে ছাদবাগান করে দেয়ার চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার কাজটি শুরু হয়।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০টি বাগান তৈরি করেছে নগরকৃষি। এক একটি বাগান ১০,০০০ টাকা আর বারান্দাতে ছোট বাগান করতে চাইলে তা ১০০০ টাকার মধ্যেই করা সম্ভব।

বাড়ির ছাদে বাগান করে দেয়ার পাশাপাশি নগরকৃষি অফিস ও বাড়ির লনও সাজিয়ে দেবে সবুজে। বললেন নগরকৃষির প্রতিষ্ঠাতা কামরুল হাসান।

নগরকৃষির আরও একটি কার্যক্রম হলো লিটল ফার্মার। গাছের সাথে সখ্যতা বাড়াতে ছোটশিশুদের নানা রকম প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন তাঁরা। বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে বা নিজেরদের উদ্যোগেই তাঁরা এমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকেন। সেখানে খুদে কৃষকদের গাছের পোকা, ফুল, ফলের সাথে পরিচয় করে দেয়া হয়। হাতেকলমেই তাদেরকে দেখানো হয় গাছ লাগানোর এবং গাছ পরিচর্যার ছোট ছোট ব্যাপারগুলো।

এছাড়া বীজ, গাছ, মাটি ও অন্য সব উপকরণও দেয়া হয় বাগানের জন্য। ফেসবুকের লিটেলফার্মার পেইজে যোগাযোগের মাধ্যমে শিশুরা এমন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবে।

বাগানের জন্য ভালো মাটি, ভালো বীজ কোথায় পাওয়া যাবে? আর গাছের কীটনাশক বাড়ির সদস্যদের ক্ষতি করবে না তো? এমন চিন্তায় থাকে অনেকই। এই সব সমস্যার সমাধানও দেবে নগরকৃষি।

ইকোগ্রোয়ার পেইজে গেলেই বিভিন্ন গাছ, বীজ, সঠিক সার, মাটি ও বাগানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রের খোঁজ পেয়ে যাবেন গাছ প্রেমিকরা। এছাড়া নগর কৃষিরসদস্যরা উদ্ভব করেছেন সবজি, ফলগাছ ও ক্যাকটাস জাতীয় গাছের জন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদান ছাড়াই দুই ধরনের রেডিমিক্স মাটি। এই মাটিতে খুব সহজেই জন্মাবে গাছ আর অন্য কোনো সারেরও প্রয়োজন নেই। এছাড়াও এই পেইজে পাওয়া যাবে পরিবেশবান্ধব কীটনাশকও।

ছাদবাগান, বারান্দা ও অফিস সাজাতে তাঁদের তৈরি পটারিও রয়েছে। বারকোশ, কুমারিকা, লিলিপুট, পাললিকা, শিলাপিলি নামের পটারিগুলো পাওয়া যাবে ১৫ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। ধরন অনুসারে বাগানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রগুলো পাওয়া যাবে ১০০ থেকে ১২৭৫ টাকার মধ্যে।

নগরকৃষির মাধ্যমে গাছের নানা সমস্যার সমাধানও পেতে পারেন যে কেউ। আর তার জন্য নগরকৃষির ফোন নম্বরে ফোন করে ও ফেসবুক পেইজে ছবি বা বার্তা দিয়ে বিনামূল্যে গাছের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সেবা পাওয়া যাবে।

সবুজের সমারোহ বাড়ানোর এমন উদ্যোগের জন্য ২০১৮ সালে প্রথম আলো কৃষি পুরষ্কার পান নগরকৃষির এই উদ্যোক্তারা।

রিফাত পারভীন : শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল  ইউনিভার্সিটি

Sharing is caring!

Leave a Comment